সুস্থ ও সুন্দর জীবন লাভের অন্যতম উপায় পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন থাকা। এ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা জীবনযাপন ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য এবং ইবাদত।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিদের ভালোবাসেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَن يَتَطَهَّرُواْ وَاللّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ

‘সেখানে রয়েছে এমন লোক, যারা পবিত্রতাকে বেশি ভালোবাসে। আর আল্লাহ পবিত্র লোকদের ভালোবাসেন।‘ (সুরা তাওবা : আয়াত ১০৮)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক।’ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতার প্রতি তিনি অনেক গুরুত্ব দিয়েছেন। পবিত্রতা অর্জন ও পরিচ্ছন্ন জীবন যাপনে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

বিশ্বনবির নসিহত থেকে ঘরের হাঁড়ি-পাতিল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়গুলোও বাদ যায়নি। তিনি ঘরের শোয়া-বসার বিছানাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে বলেছেন।

বাড়ির আঙিনায় হাটাচলা, শরীরের পোশাক-পরিচ্ছদসহ সব কিছুর পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে বিশেষ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। কারণ এসব কিছুর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতার মধ্যে শারীরিক সুস্থতা, পবিত্রতা এবং আত্মিক প্রশান্তি ও প্রফুল্লতা অর্জিত হয়। শরীরে যেমন আনন্দ ও সজিবতা থাকে তেমনি মানসিক সুস্থতাও ফিরে আসে অনেক বেশি।

পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন করেছেন সাহাবায়ে কেরাম। নিজেদের সুস্থতার বিষয়ে তারা ছিল সতর্ক। হাদিসের বর্ণনা ও সাহাবাদের জীবন থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সব মুসলমানের ওপর আল্লাহর এ অধিকার আছে যে, প্রতি সপ্তাহে (সে) গোসল করবে এবং মাথা ও শরীর ধুয়ে নেবে।’ (বুখারি)

হজরত আদি বিন হাতেম রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে প্রত্যেক নামাজের জন্য অজু করি আর নামাজের পরেও অজু অবস্থায় থাকি। কেননা একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত বিলাল রাদিয়াল্লাহুআনহুকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে বিলাল! গতকাল তুমি আমার আগে বেহেশতে গেলে কীভাবে?

হজরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যখনই আমি আজান দিই, তখনই আমি দুই রাকাআত নফল নামাজ আদায় করি। আর যখনই অজু ছুটে যায়, তখনই নতুন করে অজু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করি।

সুতরাং সব মানুষেরই উচিত, নিজের ও সুন্দর পরিবেশের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পবিত্রতাপূর্ণ জীবন যাপন করা। নিয়মিত অজু-গোসল করা। সব সময় পবিত্র থাকা। পরিবেশ সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখা। এ কথা মনে রাখা- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা শুধু সুস্থ থাকার অনুসঙ্গই নয়, বরং তা কুরআন-সুন্নাহর নসিহত এবং ইবাদত। সবার আগে জান্নাত লাভের অন্যতম মাধ্যম।

আল্লাহ তাআলা সবাইকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন জীবন যাপন করার তাওফিক দান করুন। কুরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।